Skip to main content

ঋতুপর্ণ ঘোষ সম্পর্কে কিছু কথা


   
   দেখতে দেখতে সাত সাতটি বছর হয়ে গেল তুমি নেই আমাদের মাঝে, নেই তোমার প্রিয় টলিপাড়াতেও।।
যেখানেই থেকো ভালো থেকো তুমি।।


ঋতুপর্ণ ঘোষ বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক। অর্থনীতির ছাত্র ঋতুপর্ণ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট হিসেবে। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি হীরের আংটি। দ্বিতীয় ছবি উনিশে এপ্রিল মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। এই ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান।
ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের অনুরাগী। দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি বারোটি জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ৩০ মে কলকাতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
১৯৬৩ সালের ৩১ অগস্ট কলকাতায় ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্ম। তাঁর বাবা-মা উভয়েই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা সুনীল ঘোষ ছিলেন তথ্যচিত্র-নির্মাতা ও চিত্রকর। ঋতুপর্ণ ঘোষ সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন ভারতের এলজিবিটি সম্প্রদায়ের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। জীবনের শেষ বছরগুলিতে তিনি রূপান্তরকামী জীবনযাত্রা নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করছিলেন। তিনি নিজের সমকামী সত্ত্বাটিকে খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নেন, যা ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খুব কম মানুষ করেছেন।
চলচ্চিত্র জগতে আসার আগে ঋতুপর্ণ ঘোষ ছিলেন কলকাতার একজন "অ্যাডভারটাইসমেন্ট কপিরাইটার"। ১৯৮০-র দশকে বাংলা বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় বেশ কিছু জনপ্রিয় এক লাইনের শ্লোগান লিখে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতায় ইংরেজি ও হিন্দি বিজ্ঞাপনগুলি বাংলায় অনুবাদ করে চালানো হত। ঋতুপর্ণ বাংলায় স্বতন্ত্র বিজ্ঞাপনী শ্লোগানের ধারা সৃষ্টি করেন। তাঁর সৃষ্ট বিজ্ঞাপনগুলির মধ্যে শারদ সম্মান ও বোরোলিনের বিজ্ঞাপনদুটি বিশেষ জনপ্রিয় ছিল। কোনো কোনো সমালোচকের মতে, (বিজ্ঞাপনী চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে) দর্শকদের কাছে আবেদন পৌঁছে দেওয়ার এক বিশেষ দক্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন, যা তাঁর ছবি বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজে জনপ্রিয় করে তোলে।
ঋতুপর্ণ ঘোষের কর্মজীবন শুরু হয় বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায়। তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি হিরের আংটি ১৯৯২ সালে মুক্তি পায়। এটি ছিল ছোটোদের ছবি। ছবিটি তৈরি হয়েছিল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস অবলম্বনে। এতে অভিনয় করেছিলেন বসন্ত চৌধুরী, মুনমুন সেন প্রমুখেরা।
১৯৯৪ সালে তাঁর দ্বিতীয় ছবি উনিশে এপ্রিল মুক্তি পায়। এই ছবিতে এক মা ও তাঁর মেয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের কাহিনি দেখানো হয়েছে। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। ১৯৯৫ সালে এই ছবি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায়। এরপর দহন মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৮ সালে এই ছবি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায় এবং এই ছবির দুই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রাণী হালদার একসঙ্গে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান। দহন ছবির বিষয়বস্তু কলকাতার রাস্তায় এক মহিলার ধর্ষিত হওয়ার কাহিনি। অপর একটি মেয়ে সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। সে এগিয়ে আসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু সমাজ ও ধর্ষিতার পরিবার পরিজনের ঔদাসিন্যে সে হতাশ হয়।
১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া অসুখ ছবিতে এক অভিনেত্রী ও তাঁর আয়ের উপর অনিচ্ছুকভাবে নির্ভরশীল বাবার সম্পর্ক দেখানো হয়। এটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়। বাড়িওয়ালি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। এই ছবিতে এক নিঃসঙ্গ বিধবা (কিরণ খের) নিজের বাড়িটি এক ফিল্ম প্রোডাকশনকে ভাড়া দেন। তাঁর অবদমিত কামনাবাসনাগুলি ছবির সুদর্শন পরিচালককে নিয়ে কল্পনার ডানা মেলে। এই ছবির জন্য কিরণ খের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পান।
২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উৎসব শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়। এই ছবির বিষয়বস্তু এক একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন। এই পরিবারের সদস্যরা তাদের পারিবারিক বাড়ি থেকে বেশি দূরে না থাকলেও বছরে শুধু একবার দুর্গাপূজার সময় একত্রিত হয়। ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি তিতলি-র গল্প এক অভিনেত্রীর মেয়েকে কেন্দ্র করে। মেয়েটির প্রিয় ফিল্মস্টারের সঙ্গে এক সময় তার মায়ের প্রণয় সম্পর্ক ছিল।


২০০৩ সালে আগাথা ক্রিস্টির দ্য মিরর ক্র্যাকড ফ্রম সাইড টু সাইড অবলম্বনে ঋতুপর্ণ তৈরি করেন একটি "হুডানইট" রহস্য ছবি শুভ মহরত। এই ছবিতে বিশিষ্ট অভিনেত্রী রাখী গুলজার ও শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে অভিনয় করেন নন্দিতা দাস। এই বছরই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে ঋতুপর্ণ তৈরি করেন চোখের বালি। এই ছবিতেই তিনি প্রথম বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাইকে নিয়ে কাজ করেন।
২০০৪ সালে ঋতুপর্ণের প্রথম হিন্দি ছবি রেনকোট মুক্তি পায়। এই ছবিটি ও. হেনরির ছোটোগল্প "দ্য গিফট অফ দ্য ম্যাজাই" (১৯০৬) অবলম্বনে নির্মিত। এই ছবিতেও ঐশ্বর্যা রাই অভিনয় করেছিলেন। এই ছবির শ্যুটিং শেষ হয়েছিল ১৭ দিনে। ছবিটি শ্রেষ্ঠ হিন্দি ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।
২০০৫ সালে তাঁর বাংলা ছবি অন্তরমহল মুক্তি পায়। এটি ব্রিটিশ আমলের এক জমিদার পরিবারের গল্প। জ্যাকি শ্রফ জমিদার চরিত্রট করেন; আর তাঁর দুই স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন সোহা আলি খান ও রূপা গাঙ্গুলি।
২০০৭ সালে দ্য লাস্ট লিয়ার মুক্তি পায়। এটি একটি প্রাক্তন শেক্সপিয়ারিয়ান থিয়েটার অভিনেতার জীবনের গল্প। অমিতাভ বচ্চন কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া প্রীতি জিন্টা ও অর্জুন রামপালও এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
২০০৮ সালে মুক্তি পায় খেলা। এটি মানব সম্পর্কের গল্প। এটি মণীষা কৈরালার প্রথম বাংলা ছবি। এই বছরই মুক্তি পায় তাঁর সব চরিত্র কাল্পনিক। প্রসেনজিৎ ও বিপাশা বসু অভিনীত এই ছবিটি শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।
২০০৯ সালে যিশু সেনগুপ্ত, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, দীপংকর দে ও মমতা শঙ্কর অভিনীত ছবি আবহমান মুক্তি পায়। এটি শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পায়।
মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর পরবর্তী ছবি সত্যান্বেষী-র শ্যুটিং শেষ করেছিলেন। এই ছবিটি গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সীর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হচ্ছিল।
ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রথম অভিনয় করেন ওড়িয়া ছবি কথা দেইথিল্লি মা কু-তে। হিমাংশু পারিজা পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৩ সালে। ২০১১ সালে তিনি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আরেকটি প্রেমের গল্প এবং সঞ্জয় নাগের মেমরিজ ইন মার্চ ছবিতে অভিনয় করেন। আরেকটি প্রেমের গল্প ছবির বিষয় ছিল সমকামিতা।
ঋতুপর্ণের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি চিত্রাঙ্গদা। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদার কাঠামো অবলম্বনে নির্মিত। এটি ৬০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।
ঋতুপর্ণ দুটি সেলিব্রিটি চ্যাট শো সঞ্চালনা করেন। এগুলি হল ইটিভি বাংলার এবং ঋতুপর্ণ এবং স্টার জলসার ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানি। ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানির একটি পর্বে তিনি মীরের সাক্ষাৎকার নেন। এটি কিছু বিতর্ক সৃষ্টি করে।
ঋতুপর্ণ বাংলা ফিল্ম ম্যাগাজিন আনন্দলোক সম্পাদনা করেন ১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত।।




ঋতুপর্ণ ঘোষের  অনবদ্য কয়েকটি ছবি :-

ঘটনা হল যারা মনে করে ঋতুপর্ণ ঘোষকে বিখ্যাত করেছে মীর, তারা ওনার কোন সিনেমাই দেখেনি। রিমেকের বাইরে তারা কিছু দেখেছে নাকি সেটা নিয়েও আমার ভীষণ সন্দেহ আছে। বস্তুত বাঙালি আজকাল যেভাবে রুচিহীনতার সাগরে ডুবে চলেছে, তাতে ঋতুপর্ণ ঘোষ না দেখলে তাদের বিশেষ ক্ষতি হবার কথা নয়। মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে শুনে নাল গড়ায়, দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সেটে বাংলা ডায়লগ দেখে তাদের শীৎকার হয়... সব মিলিয়ে এই নিম্নমেধার বাঙালি দর্শকের কথা ভেবে যারা যারা সিনেমা বানাননি তাদের লিস্টে ঋতুপর্ণ খুব উপরের দিকে থাকবেন। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক করার ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের পরে যদি ঋতুপর্ণ ঘোষের নাম নেওয়া যায় তাতে খুব একটা সমস্যা হবার কথা নয়। যাক গে এ সব কথা। আমার যেটা মনে হয়েছে সেটা সবার নাও মনে হতে পারে। সংস্কৃতির সংজ্ঞা আজকাল বদলে যাচ্ছে। তবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দের হিসেবে ঋতুপর্ণের যে সিনেমা না দেখলে জীবন বৃথা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করা যাক...

১) শুভ মহরত

শর্মিলা ঠাকুর, রাখি, নন্দিতা দাস। শুধু এই তিনজনের জন্য সিনেমাটা বারবার দেখা যায়। গল্পের বাঁক, রহস্য গল্প বলে যাওয়া... সব কিছুর উপরে। ঋতুপর্ণের ছবিতে মেয়েদের গভীরতা, তাদের মনোবিশ্লেষণ যেভাবে দেখা যায় সেটা আলাদা করে উল্লেখের দাবী রাখে। আগাথা ক্রিস্টির “দ্য মিরর ক্রাকড ফ্রম সাইড টু সাইড” গল্পকে তাঁর নিজের মত করে বলেছেন। গল্পের সাথে যুক্ত হয়েছে মল্লিকা সেনের (নন্দিতা দাস) নারী মন,পদ্মিনী চৌধুরী শর্মিলার রহস্যে ঘেরা উপস্থিতি আর সারাদিন উল বুনে যাওয়া মিস মারপল নীরব কিন্তু বাঙময় রাখি।




২) তিতলী (২০০২)

“মেঘ পিওনের ব্যাগের ভেতর মন খারাপের দিস্তা, মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা!
মেঘের ব্যাগের ভেতর ম্যাপ রয়েছে…”

পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় কোনো এক মেঘ পিওন বয়ে চলেছে বার্তা, গানটা শেষ হতেই কলিং বেল বাজলো, “টিং টং!”
এ বাড়িতে আছেন মা-মেয়ে, বাবা বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন ব্যবসার কাজে, আজ তার ফেরার কথা। মা-মেয়েকে তাই এয়ারপোর্টে যেতে হবে। অপর্ণা সেন ও কঙ্কণা সেন দুজনের সম্পর্ক এখানেও মা-মেয়েরই। তাদের সহজ কথোপকথনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী। মেয়ের পছন্দের ফিল্মস্টার নিয়েই বেশিরভাগ কথা!

একটু পর গল্পে মোড় আসে, দেখতে দেখতে দর্শক অনেকটাই আঁচ করে নিতে পারবেন ঘটনার সংযোগ। কিন্তু ঋতুপর্ণ এতে যা দেখাতে চেয়েছেন তা মূলত নিছক ঘটনা নয়, তিনি তুলে এনেছেন সম্পর্কের বাইরের সম্পর্ক। অপর্ণা সেনের চরিত্রের পরিপক্বতা কীভাবে কঙ্কণার (নামচরিত্রে তিতলী) ছেলেমানুষিকে আগলে রাখে সস্নেহে এবং কিছুটা সময় পেরিয়ে গেলেই কী করে তারা দুজনেই হয়ে উঠেন সহযাত্রী- এসব কিছু ক্রমশ আচ্ছন্ন করবে দর্শককে। সাথে পাহাড়ি হিমেল হাওয়া যেন পর্দার বাইরে এসেও একটু কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়ে যায়!

৩) বাড়িওয়ালী (২০০০)

‘বাড়িওয়ালী’-তে কিরণ খেরের অভিনয় তাকে এক ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করেছে। শুরু থেকেই তার সেই অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে যে ভেতরের দমিয়ে রাখা আকুলতা, তার প্রায় রাতে দেখা অধিবাস্তব স্বপ্নগুলো যেন একটি ক্যানভাসে এঁকে গেছে একা এক নারীর সমগ্র অস্তিত্বকে।

সে ক্যানভাসে রং নেই, তুলি নেই, আছে শুধু কখনো কখনো থমকে যাওয়া নীরবতা। কাজের মেয়ে মালতী আর তার প্রেমিককে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পেয়ে বনলতার দৃষ্টিতে যা ছিল তা কাম নয়, ঈর্ষা নয়। সে দৃষ্টি শুধু এক বঞ্চিতের দৃষ্টি। তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে একফোঁটা জল পড়লে তা যেমন শুষে নেয়, তেমনি বনলতাও নিজের মধ্যে ধারণ করতে চেয়েছিলো আকণ্ঠ প্রেম। তা কি সে পায়, নাকি থেকে যায় চিরবঞ্চিত?
অদ্ভুত এক মনস্তত্ত্ব বর্ণনা করে গেছেন ঋতুপর্ণ, শুধু বনলতার চরিত্রেই নয়, পাশাপাশি বহমান অন্যান্য জীবনেও।

৪) অন্তরমহল (২০০৫)

বিশাল এক জমিদারবাড়ি, রূপকথার রাজাদের মতই এই জমিদারের মনেও নেই সুখ। সন্তান নেই তার, তার যে রাজচক্কোত্তি ছেলে চাই, ছেলে! এতে সুয়োরানী-দুয়োরানী আছে কি না জানি না, তবে জমিদারের দুই স্ত্রী আছেন।

সন্তানদানে অক্ষম এই জমিদার রোজ যে কী করে আর কত প্রকারে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ‘পুত্রসন্তান’ নামের ফসলটি ফলাতে চান, তাই কাহিনীর মূলধারা হয়ে চলতে থাকে। ওদিকে আবার এক ফিরিঙ্গী চিত্রকর এসে রয়েছেন জমিদারের পোর্ট্রেট আঁকবেন বলে! এই চিত্রকরই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করে গেছেন অন্তরমহলের। দেখতে পাই কৃষ্ণনগর থেকে আসা এক তরুণ মৃৎশিল্পীকে, যাকে তলব করা হয় দুর্গাপূজার মূর্তি গড়তে, তাও এক বিশেষ রূপে! কাহিনীর গতিময়তায় শিল্পীটিও জড়িয়ে পড়ে জমিদারবাড়ির জীবনযাত্রায়। পাশাপাশি তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, পুরোহিতদের সংস্কারাধিপত্য সবই সমান তালে চলেছে এবং এসব কিছুর ফাঁকে ফাঁকে ‘অন্তরমহল’ সবটুকু জায়গা জুড়ে থাকে।

৫) দহন (১৯৯৭)

দুর্ঘটনা সবার জীবনেই কোনো না কোনো সময় আসে। কারো জীবন থেকে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায় স্মৃতির দাগ, আর কারো জীবনে থেকে যায় ‘দহন’ হয়ে। খুব স্বাভাবিক হাসি-খুশি বিবাহিতা একটি নারীর জীবনে শ্লীলতাহানির মতো দুর্ঘটনা যে মৃত্যুর চাইতেও গাঢ় এ সমাজে! এই স্মৃতির দাগ কি আদৌ মিলিয়ে যাবার? এই ‘দহন’কে ঋতুপর্ণ দেখিয়েছেন আগুনের লেলিহান শিখায়, তবে একজন নারীর মধ্য দিয়ে নয়, দুজনের।

একজন যিনি আগুনে পুড়লেন, আরেকজন যিনি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও পুড়লেন। এ সমাজ, সমাজের মানুষ নারীর শারীরিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে পিষে মারে তাকে। আবার এ সমাজই নারীর বীরত্বকে মেনে নিতে না পেরে করে পাল্টা আক্রমণ। কী বীভৎস হয়ে ওঠে চারপাশ নারীর জন্য, দহন তার একটি চলমান দলিল। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস এর কাহিনীটি এখানে অভিনীত, কিন্তু দেখলেই বোঝা যায়, চির পরিচিত এ গল্প। পাশের বাড়ির মেয়েটি থেকে শুরু করে অচেনা কোনো নারী, কেউ এই দহনের বাইরে নয়।

৬) রেইনকোট (২০০৪)

এটি ঋতুপর্ণ ঘোষ নির্মিত একমাত্র হিন্দি সিনেমা। ও’ হেনরীর ছোট গল্প ‘গিফট অফ মেজাই’ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমাটি একটি হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের কথা বলেছে। যার সাথে হেসেছি, খেলেছি, ভবিষ্যতের বহু স্বপ্নও সাজিয়েছি- সে মানুষটি যদি হঠাৎ করে অচেনা জগতের বাসিন্দা হয়ে যায়? আর অনেক বছর পর যদি আবারো তার খোঁজ মেলে, নচিকেতার সেই গানটির মতোই,

“যদি হঠাৎ আবার দেখা হয়ে যায়, কোনো পথের বাঁকে, বহু কাজের ফাঁকে? শুধু জানতে চাইবো, আজো মনে পড়ে কি? মনে পড়ে কি স্মৃতি নাকি দিয়েছ ফাঁকি?”

তবে? এই সিনেমাতে ঋতুপর্ণ বোধহয় এই উত্তরগুলোই খোঁজার চেষ্টা করেছেন। পেয়েছেন? প্রাপ্তির কথা বলতে গেলে, হয়তো উত্তরের চাইতেও অনেক বেশিই মেলে চরিত্রকথনে।

একটি রেইনকোট, দু’টি মানুষ, অনবরত নিজেদের সুখ বর্ণনা আর ‘গিফট অফ মেজাই’- সবকিছুর অপুর্ব মিশেলে রেইনকোট সিনেমাটি অনেক বেশি গভীরতার দাবি রাখে আর দর্শককেও ডুব দিতে হয় সে গভীরতায়।

৭) চোখের বালি (২০০৩)

‘চোখের বালি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস যাতে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে এবং এর অবলম্বনেই ঋতুপর্ণ ঘোষ নির্মাণ করেন সিনেমাটি। ‘চোখের বালি’র সবচেয়ে প্রবল যে চরিত্র ‘বিনোদিনী’, তাতে ঐশ্বর্য রাই এর অনবদ্য অভিনয় যেন বিনোদিনীকে বইয়ের পাতা থেকে একেবারে চোখের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়!

একজন বিধবার কাছে কামনা-বাসনা মানেই অনিবার্য পাপ, বিনোদিনীর চরিত্রে যে আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয় তাকে একপর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ তার উপন্যাসে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে কাশী পর্যন্ত নিয়ে যান। এই শেষটুকু নিয়ে কবিগুরুর আমৃত্যু আক্ষেপ ছিল। বিনোদিনীকে কাশী পাঠিয়ে যে ভুল তিনি করেছেন, পাঠককুলের নিন্দায় তার স্খলন হয়েছে বলে তিনি মনে করতেন। চলচ্চিত্রে এসে পরিচালক কিন্তু কারো কাছে বশ্যতা স্বীকার করলেন না, বিনোদিনী একজন বিধবা বলেই যে তার সাধ-আহ্লাদ করা পাপের শামিল এটি ঋতুপর্ণ মেনে নেন নি। এজন্যই সিনেমার শেষটুকু উপন্যাস থেকে ভিন্নতা পেয়েছে। উপন্যাসের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলচ্চিত্রে এসে পূর্ণতা লাভ করেছে।।

৮) আরেকটি প্রেমের গল্প

সিনেমাটি ঋতুপর্ণ ঘোষের নয়। কৌশিক গাঙ্গুলির। কিন্তু ঋতুপর্ণ ঘোষের পাঁচটি সিনেমা যেগুলি না দেখলে জীবন বৃথা সেই তালিকায় এই সিনেমাটি না থাকলে যে তালিকাটি সম্পূর্ণ হবার নয়! একটা অদ্ভুত গল্প আর তার সাথে কি ব্যক্তিত্বপূর্ণ উপস্থিতি ঋতুপর্ণর। কৌশিক গাঙ্গুলি এই সিনেমায় ঋতুপর্ণের স্টান্স নিয়েছেন। এবং অবলীলায় ছক্কা মেরেছেন সে কথা বলাই বাহুল্য।
ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র, বিশেষত আর্ট ফিল্মে একটি অন্য মাত্রা যোগ করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তার চলচ্চিত্রে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের বাইরের সম্পর্ক, নারীর ক্রমশ নারী হয়ে ওঠা- এসবই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে। দর্শকসমাজকে আন্দোলিত করতে, আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনে আলোড়ন তুলতে ঋতুপর্ণের চলচ্চিত্র নিজস্ব ঋজুতা সবসময়ই টিকিয়ে রেখেছে। প্রচলিত ধারাকে অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন আর তার চলচ্চিত্রের দর্শকদেরও দেখতে শিখিয়েছেন তিনি। শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণেই আটকে রাখেন নি তিনি নিজেকে, প্রতিভা ছড়িয়েছেন অভিনয়ক্ষেত্রেও।



● আসুন দেখে নেওয়া যাক ঋতুপর্ণ ঘোষের সম্পর্কে আজানা বা কম জানা তথ্য-

১) ঋতুপর্ণ ঘোষই হলেন একমাত্র পরিচালক যিনি সমগ্র বচ্চন পরিবারের সঙ্গে কাজ করেছেন।

২) 'কথা দেইথিল্লি মা কু' নামক ওড়িয়া ছবিতেই ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রথম সিনেমায় অভিনয়। সালটা ২০০৩। যার পরিচালক ছিলেন হিমাংশু পারিজা।

৩) ঋতুপর্ণ ঘোষই হলেন একমাত্র বাঙালী পরিচালক যিনি অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বর্য রাই, রাখি গুলজার, অজয় দেবগন, কিরণ খের, মনীষা কৈরালার মত এতজন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

৪) ঋতুপর্ণ ঘোষের দ্বিতীয় ছবি 'উনিশে এপ্রিল' আসলে সত্যজিত রায়ের 'জলসাঘর' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরী করা।

৫) 'আরেকটি প্রেমের গল্প' ছবিটির শুটিং চলাকালীন ঋতুপর্ণ ঘোষ 'সেক্স চেঞ্জিং অপারেশন' করান।।




#ভালো_থাকিস_ঋতুরাজ

"" আমার বড় মেয়ে ডোনার বিয়ের তত্ত্ব সাজানোর সময়ে প্রত্যেকটা ডালার উপরে ছড়া লিখে দিয়েছিল ঋতু। ডোনার শ্বশুরমশাই আর শাশুড়িমা'-র জন্যে আমার নাম করে ছড়ায় চিঠিও লিখে দিয়েছিল। ওর হাতের লেখায় সেসব ছড়া যত্ন করে রাখা ছিল আমার দেরাজে। আজ ঋতু চলে যাওয়ার পর পাঠকদের হাতে তুলে দিলাম বাছাই করা অনবদ্য কিছু ছড়া। ""
➖ অপর্ণা সেন।

১. পাল্কি ক'রে বৌ এল রে, পাড়াপড়শি কৈ?
অঙ্গে শাড়ী বালুচরী, রূপ করে থৈ থৈ
কল্কা করা নক্সা আঁচল, জামরঙা তার খোল,
ছোট্ট রুপোর পাল্কি সাথে-সাবধানেতে তোল।
* * * * * *

২. তুঁতে রঙের বেনারসী, সাদা রঙের পাড়ে
সোনার বরণ কল্কা করা - অপূর্ব বাহারে!
তিনকোণা এক রুমাল আছে, শাড়ির ভাঁজে রাখা
সাদা সুতীর রুমাল, তার এককোণে ফুল আঁকা।
* * * * * *

৩. তুঁতে রঙের রাজকোট, তার গোলাপ রঙের পাড়,
রঙ মেলানো ব্লাউজ সাথে, কেমন চমৎকার!
টিপের পাতা সাজিয়ে দিলাম তুঁতে শাড়ীর ভাঁজে,
সারাজীবন করবে আলো দুটি ভুরুর মাঝে।
* * * * * *

৪. ঘিয়ে রঙা ঢাকাই শাড়ী, লাল রঙা তার পাড়।
জরির ছোঁয়ায় সাজটি যেন লক্ষ্মী প্রতিমার।
টুকটুকে লাল ব্লাউজ আছে, রং মিলিয়ে কেমন!
লক্ষ্মী সাথে আপনি এলেন মা লক্ষ্মীর বাহন।
* * * * * *

৫. বাদলা কাজের শিফন শাড়ী, পীচফলের রঙ।
ব্লাউজ আছে পাড়বসানো - ভিন্নরকম ঢং।
সাদা রুমালটিতে কেমন গোলাপী রঙ কাজ।
সব মিলিয়ে দারণ হবে নতুন কনের সাজ।
* * * * * *

৬. বেগনী রঙের রেশম শাড়ী, সম্বলপুর থেকে
টুকটুকে লাল রঙ রয়েছে, আঁচল পাড়ে ঢেকে
ব্লাউজ আছে, সঙ্গে আছে চুড়ির গোছা ষোল
রং মিলিয়ে পরবে বলে সঙ্গে দেওয়া হ'ল।
* * * * * *

৭. টুকটুকে রং চিকন শাড়ী পড়বে মোদের মেয়ে
গোলাপী রং ফুলে ফুলে থাকবে শরীর ছেয়ে।
সেই রঙেরই চোলি, মেয়ের রূপ করে ঝলমল
কাঠের সিঁদুরকৌটো দিলাম, কপালে জ্বলজ্বল।
* * * * * *

৮. জোব্বা পরা ফ্যাশন এখন, কাফতান তার নাম
আগাগোড়া আরশি ঢাকা তিনটে পাঠালাম
দু'খানি তার কলমকারি রঙবাহারি কাজে।
অন্যটিতে আয়না দেওয়া, সাদা - বুকের মাঝে।
* * * * * *

৯. হাল্কা সবুজ রাতপোশাকে সাদা রঙের লেস
গৌরবরণ কনের দেহে স্নিগ্ধ লাগে বেশ
সারা শরীর স্নিগ্ধ হবে লোশনে পাউডারে
সাবান এবং গন্ধপাতা দিলাম প্যাকেট ভ'রে।
* * * * * *

১০. শুভ্র লেসের কাজ করা এই রাতপোশাকটি সাদা
নিনা রিচির বোতল সাথে সাদা ফিতেয় বাঁধা
জুতোজোড়া, ব্যাগটি ঘন রাতের মত কালো
এককোণেতে ভাঁজ করা শ্বেত রুমালটিও ভালো।
* * * * * *

১১. এই ডালাতে রয়েছে যত স্নানের সরঞ্জাম
তিন কোণা এক বাক্স ভরা সুগন্ধি হামাম
নক্সা করা স্নান তোয়ালে ভিজে শরীর মো্ছে।
স্নানের পরে নরম দেহে বুলিও আলগোছে।
* * * * * *

১২. ঝকঝকে রঙ সোনার বরণ সাজের উপাচার।
হাত আয়না, চিরুণি আর ব্রাশটি চমৎকার।
সাজিয়ে দেওয়া হ'ল সে সব আয়না দেওয়া ট্রেতে
সোনার বরণ উজ্জ্বল রং ট্রের হাতলেতে।
* * * * * *

১৩. গা ভরা কাজ রেশমী পিরাণ - রয়েছে ডালাজুড়ে
ধুতির পাড়ে খয়েরি রঙে সোনার ডুরে ডুরে
'D' লেখা শ্বেত রুমাল কাছে পিরাণ-ধুতির সাথে
স্বর্ণজরির কাজ রয়েছে খয়েরী নাগরাতে।
* * * * * *

১৪. তসর রঙের পাঞ্জাবী, তার গলার কাছে কাজ।
এই না হ'লে মানায় নাকি নতুন বরের সাজ!
রঙ মেলানো নক্সা করা জহর কোটের গায়ে
ফুলতোলা এক নাগরাজোড়া, পরবে বলে পায়ে।
* * * * * *

১৫. দু'টো টি-শার্ট বেনেটন, আর একটা টি-শার্ট পোলো,
সব মিলিয়ে দীপাঞ্জনের তিনটে টি-শার্ট হ'ল।
তিন বোতলে সাজিয়ে দিলাম পোলোর প্রসাধন।
শ্যাম্পু দিলাম, ডিওডোরেন্ট - সঙ্গেতে কোলন।
* * * * * *

১৬. খুকুমণি ননদিনী এই ডালাটা তারই
টুকটুকে পাড় সবুজ রঙের দক্ষিণী সিল্ক শাড়ী
শাড়ীর সাথে বাক্স ভরে বিবিধ প্রসাধনী।
মেয়েকে মোদের সুখী রেখো, দোহাই ননদিনী।
* * * * * *

১৭. নক্সা করা তোয়ালেটা পাতা ডালার মাঝে
চুকরি ভরা প্রসাধনী লাগবে কনের সাজে।
নিরা রিচি, ক্লোয়ি, তাদের জগৎজোড়া নাম
এসব ভেবে সাজিয়ে কনের সঙ্গে পাঠালাম।
* * * * * *

১৮. বেয়াই মশাই শুনেছি মোর মানুষটি গম্ভীর।
সহজেতে ক'ন না কথা, ভীষণই ধীর-স্থির।।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা নয়কো তেমন মোটে।
যতবারই হয়েছে দেখা, খুব অমায়িক বটে।।
রাশভারি সেই বেয়াই আমার চিকণ হবে বলে
সোনালী-পাড় ধাক্কা-দেওয়া চিকণ ধুতির কোলে
পাঞ্জাবীটি চোখ-জুড়োনো নকশা তসরেতে
যত্ন করে পাট করে দিই ডালার বুকে পেতে।
সুগন্ধী তিন সাবান, আছে, আছে সোলার পাখা।
'Cologne' এবং 'After-Shave' একটি কোণে রাখা।।
এসব কিছু সাজিয়ে দিয়ে একটিমাত্র আশা।
বেয়াইবাড়ির সঙ্গে হবে গভীর ভালোবাসা।।
* * * * * *

১৯. ঝগড়া করে মন্দ লোকে 'কাঁথায় আগুন' বলে।
নতুন বেয়ান হলে কি আর তেমন বলা চলে?
অনেক ধকল গেছে ছেলে মানুষ করতে গিয়ে
এবার না হয় ঘুমোও বেয়ান কাঁথা মুড়ি দিয়ে
কাঁথার কাজের রেশমী শাড়ি পাঠাই তোমার তরে।
সোনায় মোড়া শাঁখা জোড়া দু'হাত আলো ক'রে।।
আলতা সিঁদুর একটি কোণে রয়েছে পরিপাটি।
রুপোর সিঁদুর কৌটো দিলাম, সঙ্গে সিঁদুর কাঠি।।
শাড়ির কাঁথা

ইতি
আপনার বেয়ান ঠাকুরণ 
*************************

|| ছড়া সৌজন্যে ➡ অপর্ণা সেন সম্পাদিত 'প্রথমা এখন', মাসিক পত্রিকা, নাম~"আমাদের ঋতু", ১৫ই জুলাই, ২০১৩ ||



Comments

Popular posts from this blog

Some amazing facts about Sachin Tendulkar

1 .  Sachin Tendulkar has bowled more balls than Shoaib Akhtar in ODIS 2 .  Sachin got out for a duck only once in his entire Ranji Trophy Career by Bhuvneshwar Kumar 3 .  Sachin is the only bowler to defend 6 or fewer runs off the last over twice in ODIS 4 .  Tendulkar has got all the scores from 0-100 in his international career barring   58 and 75 5 .  Sachin has more 5 wickets hauls than Shane Warne in ODIs 6 .  Tendulkar has batted on all the days of a year ( including 29Feb )expect  May 1st 7 .  Sachin was wrongly given out at least 39 times in his Cricket Career  8 . Sachin became the 1st ever cricketer to be adjudged Runout by a 3rd Umpire in 1992 Source : Socal Media & Wikipedia  THANK YOU © copyright 2020 –...

Mohun Bagan Athletic Club

MohunBagan Atletic Club Logo Estd - 15 August , 1889 Short Name - MB Nicknames - The Marines, Bagan, The National Club of India , Sabooj Maroon Brigade Founder - Bhupendra Nath Base Home Ground - SaltLake Stadium (68,000) , Mohun Bagan Ground(22,000), Barasat Stadium (22,000) , Rabindra Sarabor (13,000) ■ ■ Statistics ■ ■ ○○  FOOTBALL ○○ • NFL - 1997-98 , 1999-2000 , 2001-02 ● I League - 2015, 2019-20 • Fed Cup -1978,80,81,82,86,87, 1992,93,94,98,2001,06,08,2016 • Super Cup - 2006-07 ,2008-09 ● IFA Shield - 1911,47,48,52,54,56,60,62,67,69,76,77,78,79,81,82,87,89,1998,1999,2003 ● DURAND CUP - 1953, 59, 60, 63, 64, 65, 74, 77, 79, 80, 82, 84, 85, 86, 1994, 2000 • ROVERS CUP - 1955, 66, 68, 70, 71, 72, 76, 77, 81, 85, 88, 1991, 92, 2000-01 ● CFL - 1939,43, 44, 51, 54, 55, 56, 59, 60, 62, 63, 64, 65, 69, 76, 78, 79,83 , 84, 86, 90, 92, 94, 1997, 2001, 05, 07, 08, 09, 2018 • Airlines Gold Cup - 1...

Lionel MESSI

Lionel Andrés Messi Cuccittini জন্ম: ২৪ জুন ১৯৮৭ (বয়স ৩৩) জন্ম স্থান: রোজারিও, সান্তা ফে, আর্জেন্টিনা উচ্চতা : ১.৬৯ মি (৫ ফু ৬ ১⁄২ ইঞ্চি) মাঠে অবস্থান ফরোয়ার্ড বর্তমান ক্লাব বার্সেলোনা জার্সি নম্বর ১০ ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর এ জন্মগ্রহণ করেন আধুনিক ফুটবল এর রাজপুত্র লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। তাঁর ফুটবল এর হাতেখড়ি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্ডলি র হয়ে,সেখান থেকে নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজ এ যোগদান করেন। এই ছোট্ট বয়সেই বিশেষজ্ঞদের স্তম্ভিত করেন।তারপর হঠাৎ জীবনের ছন্দপতন।১১বছর বয়সে তাঁর ধরা পরে গ্রোথ হরমোন এর সমস্যা। প্রশ্ন উঠে যায় এখানেই কি শেষ?? . . . . না,তিনি যে হারতে শেখেননি। তৎকালীন বার্সা ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেকস মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পেরে তাকে বার্সেলোনা তে আসার অনুরোধ জানান।তিনি আরও বলেন মেসির চিকিৎসার যাবতীয় খরচা বার্সেলোনা বহন করবে। . . এরপরই ছোট্ট মেসি বাবার সাথে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেন এর পথে পাড়ি জমান।স্পেন এ এসে যোগদান করেন বার্সালোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া তে।এরপর আর পিছনে ফিরে দেখতে হয়নি। . . . . দ...